অদম্য বাঙ্গালি

পঁচিশে মার্চের ভয়াল রাতে-
গুলির ফুলকি ফোঁটে,
বুদ্ধিজীবী আর সাধারণ মানুষ
মারতে পাকিরা ছোটে।

চারিদিকে বসিয়ে শোষন মেলা-
ভাসিয়ে যুদ্ধের ভেলা,
রক্তের হলিতে মাতিয়া মিথ্যুক
জাগালো মৃত্যুর খেলা।

হতাশায় ডুবে বাঙ্গালী যখন-
নির্বাক দিশেহারা,
আগুনে পোড়ে ঘর বসতি
কপলে অশ্রু ধারা।

হায়নার নিত্য নগ্ন হামলায়-
নারীরা অসহায়,
নির্ঘুম জেগে ভয়েতে কাঁপে
কখন সম্ভ্রম যায়?

বেয়নেটের খোঁচায় অসহায় শিশুর-
জীবন করে বরবাদ,
বাবা মাকে বলে বলরে বাঙ্গালি
পাকিস্তান জিন্দাবাদ।

বাবার সামনে নিজের মেয়েকে-
নরখাদকের দল,
ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়ে বাধ্য করেছে
পাকিস্তান জিন্দা বল।

জেগেছে বাঙ্গালি অগ্নি চোখে-
প্রত্যেকে বুলেট হয়ে,
বিঁধেছে পাকের ত্রিনয়ন ঘরে
কাঁপিয়েছে মৃত্যু ভয়ে।

আকাশ মাটি জলের মাঝে
অকুতোভয় বীর,
ধ্বংস করেছে পাপীর আস্তানা
ভণ্ড মৌলবি পীর।

বুকের চিতার ক্ষোভের অনলে-
জ্বলে নয়টি মাস,
জ্বেলেছে যত বিশ্ব বেহায়া
বাংলার সর্বনাশ।

ঝরে গেলো যে জীবন গুলো-
বাংলার ভূমি হতে,
নরখাদকের বুলেটে বিঁধে
স্বাধীনতার কাম্য পথে।

তাদের দানে আজ বাঙ্গালি-
সারা বিশ্ব ময়,
উচিয়ে মাথা গর্বেতে দেয়
স্বাধীন পরিচয় ।

দেশের তরে বিলিয়ে জীবন-
শহীদ হলেন যাঁরা,
এ জাতি কভু ভুলবে না তাদের
কিয়ামত দিন ছাড়া।

মৃত্যুর নদে রূধিরে সিক্তে-
আজো উচ্চ শির,
তুমি বীর বাঙ্গালি বীর
নির্ভীক নজির।

তুমি গাজী তুমি শহীদ-
তুমিই বিশ্বময়,
বাংলাকে দিয়েছ স্বাধীন স্বত্বায়
নিজের পরিচয়।

14010total visits,1visits today

এস এম মঞ্জুর রহমান