আমার ছাত্র ফয়সাল

আমার একজন ছাত্র ছিলো-
যে ছিলো খুব চটপটে,
ক্লাশে এসে নড়ত এমন
বসত যেনো হটপটে।

দুষ্টুমিটা ছিলো এমন-
বানর এলেও মানবে হার,
স্বাস্থ্য ছিলো পাতলা গড়ন
রংটা ছিলো সাদা তার।

পড়ালেখায় খারাপ বলা-
একেবারেই মানায় না,
অনার্সে কেউ এরও চেয়ে
পড়েলেখা করেই না।

তবুও দেখে দুষ্টুমিটা-
হাতে থাকা ঐ ডাস্টার,
ছুড়ে দিতাম তারি মাথায়
ছিলাম যেহেতু মাস্টার।

এমন করে বছর পরে-
আসলো আমার বিদায় ক্ষণ,
সেই খবরে তাদের সবার
ভীষণ ভাবে খারাপ মন।

নতুন ভালো চাকরির জন্য-
বিদায় তো ভাই নিতেই হয়,
স্মরণ করে রাখতে তাদের
লিখনিতেই বিদায় হয়।

বিদায় নেবার কিছুদিন পর-
সানজিদা দেয় হঠাৎ ফোন,
কন্ঠ শুনে বুঝলাম তার
ভীষণ ভাবে খারাপ মন।

ভেজা স্বরে কান্না করে-
বলে খবর জানেন স্যার?
ফয়সাল বন্ধু চলে গেছে
আমাদের মাঝে নাই আর!!

খবর শুনে থমকে বলি
কী কারণে মৃত্যু তার?
জানেন না স্যার বহুদিন তো
রক্তে ছিলো তার ক্যান্সার।

তখন বুঝি কেনো তাঁহার-
রংটা ছিলো খুব সাদা,
দুষ্টুমিটা করত শুধু
ভুলতে ওর মরণ বাঁধা।

লিখনি তার পড়ছি তখন-
ডায়রির পাতাটি খুলে,
লেখা তাতে বারে বারে
যেনো দুষ্টুমি যাই ভুলে।

ক্ষমা করি তার অপরাধ-
সবার চেয়ে দুষ্টু সে,
তার জীবনে শ্রেষ্ঠ আমি
আমার ভীষণ ভক্ত সে।

বাংলা ইংরেজি দুভাষায়-
লিখল সে পাশাপাশি,
ফুলের ছবির শুভেচ্ছাতে
বেদনা রাশিরাশি।

সেই দিনের ঐ স্মৃতি গুলো-
বারে বারে মনে হয়,
কেমন করে অগোচরে
হচ্ছিলো সে নিজেই ক্ষয়।

সবার মাঝে বসে বসে-
ভাবতো যখন মৃত্যু ভয়,
অস্থিরতায় এদিক সেদিক
করত এমন মনে হয়।

মৃত্যু তাকে কুরেকুরে-
রক্তে যখন ঢালতো বিষ,
কে জানিতো নিঃসঙ্গতায়
যন্ত্রনাতে দিতো শিষ।

বিদায় দিনের তারিখ ছিলো-
বারো সালের আটাশ মার্চ,
লিখল কথায় “নো মোর”
তেরো সালের নয়ই মার্চ।

এর মানেটা বুঝি সেদিন-
যেদিন ফয়সাল মারা যায়!
আগে হতেই মৃত্যু তারিখ
জানতো বুঝি নিজে হায়।

কেমন করে হলাম পাষাণ-
না বুঝে তার মনের ক্ষত,
পাইনা খুঁজে শান্তনা আজ
হৃদয় মাঝে ব্যথা যতো।

জানতাম যদি রোগের কথা-
ব্যথা দিতাম না কথায়,
ছুড়তাম না আর ডাস্টার কভু
রাগের বশে তার মাথায়।

2601total visits,1visits today

এস এম মঞ্জুর রহমান