ঈদে টিকিটের মহাকাব্য

ঈদে টিকিটের মহাকাব্য

অফিসের গার্ড পোস্টের একজন কর্মচারী, খুবই বিশ্বস্ত আর অনুগত। রেল স্টেশনের কাছেই তার বাড়ি। ঈদে নাড়ীর টানে বাড়ি যাবার জন্য টিকিট সংগ্রহ করার কথা বলে রাখলাম অনেক আগেই । যেনো কোনো ভাবে টিকিট মিস না হয়। এজন্য কয়েকবার তাকে স্মরণও করায় দিয়েছি। আমাকে নিশ্চিত করে বলল স্যার টেনশন কইরেন না ব্যবস্থা করমুনে।
বাড়ি যাবার তারিখ আট আগস্ট রাতের ট্রেন। এক তারিখের ফোন দিয়ে জানালো স্যার আমি তো স্টেশনে আইছিলাম বুঝছেন,কিন্তু সিট তো সব বুক হয়েগেছে।আমি বললাম আটদিন আগে তাও টিকিট পাওয়া যাবে না! হায় আল্লাহ তাহলে বাড়ি যাবো কিভাবে? সিরাজগঞ্জ টু খুলনা,বাসের জার্নি এতো যে খারাপ লাগে তা বলে বোঝানো যাবে না।

গার্ড বললো স্যার টেনশন কইরেন না।দশদিন আগে টিকিট বিক্রি হইছে তাই মিস হইছে,বুঝছেন না।আমি তো জেগের ভাবছিলাম আটদিনের আগে প্রথম টিকিট বিক্রি হবে। স্যার,আমি তাগে তাগে থাকবুনে।কাউন্টারে পরিচিত লোক আছে তাদের বলে রাখবুনে।কেউ টিকিট ফেরত দিলেই আপনাকেই আনে দিমুনে,বুঝছেন না।

যেহেতু এখন টিকিট পাওয়ার আর কোনো উপায় নাই তাই বললাম ঠিক আছে,আপনি একটু নিয়মিত খোঁজ খবর রাখেন।

সেই এক তারিখের পর হতে প্রায়ই ফোন দিয়ে শুনি কোনো ব্যবস্থা হয়েছে কী। উনি বলেন না স্যার এখনো পাইনি,পাইলেই জানাবুনে।

ঈদের দিন ক্ষণ সব ঘনিয়ে আসছে। আজ ছয় তারিখ। টিকিটের জন্য এভাবে আর অপেক্ষা করা যায় না।কিছু একটা ব্যবস্থা করা লাগবে।তাই অফিস থেকে ফিরে একটু ফ্রেস হয়ে বাইকটা নিয়ে বেরোলাম। বাচ্চা আর বউকে ঈদের ভীড় এড়ানোর জন্য আগেই বাড়ি পাঠিয়েছি। বাচ্চার নানুভাই এসে তাদের নিয়ে গেছেন।তাই ভাবলাম বাইরে গিয়ে রাতের খাবার খেয়ে আসার সময় খোঁজ নিয়ে দেখি বাসে যাওয়া যায় কী না। রাতের খাবার খেয়ে সিরাজগঞ্জ নিউ মার্কেটের সামনে শুভযাত্রা বাসের কাউন্টারে গেলাম।দেখি কাউন্টার বন্দ।সাইনবোর্ড হতে নাম্বার নিয়ে ফোন করলাম।বললাম ভাই ৯ তারিখে যশোর যাবার বাসে কী সিট খালি আছে? অপরপ্রান্ত হতে একজন বললেন একেবারে শেষ লাইনে মাত্র একটা সিট খালি আছে।ভাই আপনাদেরর আর কোনো বাস বা অন্য কোনো বাস কি আছে যা যশোরে যায়। উনি বললেন আমার জানা নাই। যশোরে যাবার রাস্তা বেশ খারাপ। বাসের পিছনের সারিতে যাওয়া মানে জেনে বুঝেই বিষপান করার মতো।

আমি ফোন কেটে দিয়ে যশোরে বাড়ি এক কলিগ Manager,Mb.Abu Taleb ভাইকে ফোন করলাম ।জানতে চাইলাম অন্য কোনো বাস আছে কিনা।উনি বললেন নির্জনা নামে একটি বাস আছে। আর,শুভ যাত্রা বাস ছিলো কিন্তু সে বাস সার্ভিস এখন বন্ধ। কথার মধ্যে আমি কনফিউজড হয়ে গেলাম। শুভযাত্রার বাসের নাম্বারে নিজেই কথা বললাম আর কলিগ বলছেন বাস বন্ধ। যাই হোক নির্জনার নাম্বার টি আগে হতেই আমার কাছে ছিলো। ফোন দিয়ে মনটা একেবারেই খারাপ হয়ে গেলো। শুক্রবারে তাদের নির্জনাতে কোনো সিট ফাঁকা নেই।

সময় তখন সাড়ে নয়টা। উপায় না পেয়ে আবার ফোন করলাম শুভযাত্রা বাসের সেই নাম্বারে। বললাম পিছনের সারি হলেও আর উপায় নাই ।আমি সিটটি বুকিং দিতে চাই। উনি বললেন ভাই আমি মিরপুর স্কুল মাঠের এখানে থাকি। আপনি অপেক্ষা করেন আমি আঁধা ঘন্টার মধ্যে আসছি।আমি বললাম আঁধা ঘন্টা অনেক সময়।অপেক্ষা আমার মোটেই পছন্দ নয়।আমার কাছে বাইক আছে আমি আসছি আপনার ওখানে। যেতে যেতে এক রিক্সা ওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করলাম শুভযাত্রা বাস চলে কিনা। সে বললো চলে।তার পরও টেনশন যাচ্ছে না কোনো অলিগলিতে দেখা করতে গেলে যদি মোটরসাইকেল ছিনতাই হয়।মনে মনে ভয়ে আছি। সাবধান ভাবে তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।

একসময় কাউন্টারের ম্যানেজারের সাথে দেখা হলো।উনি বললেন ভাই চলেন কাউন্টারে যাই।আমি বললাম কেনো?উনি বললেন টিকিট তো কাউন্টারে। আমি বললাম ওকে। উনি বাইকের পিছনে বসলেন। আসতে আসতে পরিচয় হলো উনি আমাদের অফিসের তারিকুল হাবিব আর রাশেদ ভাইকে চেনেন। তিনি বললেন এই মানুষ খুব সৎ।আমি বললাম ভাই আমাদের অফিসের যার সাথেই আপনি পরিচিত হবেন, দেখবেন সবাই সৎ। আমাদের অফিসে দূর্ণীতি নাই।কথা বলতে বলতে শুভযাত্রা বাসের কাউন্টারে পৌছালে উনি বললেন এখানে না। বগুড়া বাসস্টান্ড চলেন।কাউন্টার ওইখানে। কাউন্টারে এসে দেখি বাসের নাম শুভযাত্রা নয়।রয়েল ডাচ -এর বাস।আমি বলাম রয়েল ডাচ-এ আসলেন যে।উনি বললেন শুভ যাত্রার তো চিহ্নই নাই।বুঝলাম উনি আগে শুভযাত্রায় চাকরি করতেন আর এখন রয়েল ডাচ-এ।কিন্তু, ফোন নাম্বার সেই আগেই টাই আছে।

উনি সিট বুকিংয়ের লিস্টটি বের করলেন।কথা সত্য মাত্র সেই পিছনের সিট খালি আছে।লিস্টের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম আহ রে যদি মাঝের দিকে একটা সিট পেতাম।কতই না আরামে যাওয়া যেতো। এমন ভাবনার মধ্যে দুই তিন মিনিট পরে কাউন্টারের ম্যানেজার বললেন ভাই আপনার সাথে পরিচিত হয়ে খুব ভালো লাগলো তাই আপনার জন্য দেখি ভালো কিছু করতে পারি কিনা। আপনি কাইন্ডলিএই নাম্বারে একটু ফোন করেন। বোয়ালিয়া হতে দুজনের যাওয়ার কথা আছে। যদি তারা টাকা অগ্রিম না দেয় তবে আপনাকে এই সিট দেওয়া যাবে।ফোন করলাম বোয়ালিয়া কাউন্টারের ম্যানেজারের কাছে।উনি বললেন আমি ১০ মিনিটের মধ্যে জানাচ্ছি।

কাউন্টারে টিভিতে হিন্দি মুভি চলছে।বসে বসে দেখছি আর কাউন্টারের ম্যানেজারকে বললাম ভাই এই চার বছর হচ্ছে কোনোদিন ট্রেন ছাড়া বাসে চড়িনি। আর আজ বাসে যাবো তাও আবার পিছনের লাইনের সিট।

উনি বললেন ভাই একজন লোকের ট্রেনের টিকিট নেওয়া আছে সে ট্রেনে যাবেনা।ট্রেনের টিকিট পাওয়ার পরেও সে বাসে যাবে। আপনি চাইলে সেই টিকিট নিতে পারেন।হঠাৎ একটু খুশির সাথে বললাম তাহলে তো খুব ভালো হয়। ম্যানেজার বলল তবে একটা সমস্যা আছে।আমি বললাম কি সমস্যা।উনি বললেন আমার ফোনে তো বারবার কল আসে আপনাকে কমপক্ষে ১৫/২০ টা নাম্বারে কল করে বের করতে হবে,কে টিকিট বিক্রি করবে।আমার কাছে তার নাম্বার সেভ করা নাই।

আমি বললাম ভাই সমস্যা নাই।নাম্বার বলেন একে একে ফোন করি। উনি বেছে বেছে প্রথমে একটি নাম্বার দিলেন।আমি কল করলাম।সালাম দিয়ে বললাম ভাই আপনি কী ট্রেনের একটি টিকিট বিক্রি করবেন?

অপর প্রান্ত হতে জানালেন, হ্যাঁ ভাই আমার টিকিট আছে বিক্রি করতে চাই।বললাম কত তারিখের টিকিট? উনি বলেলেন আমি একটু পরে বিস্তারিত জানাচ্ছি।বেশ কিছুক্ষণ হয়ে গেলো কোনো ফোন কল আসছে না তাই, আমি নিজেই আবার ফোন করলাম।তখন জানতে পারলাম ভদ্রলোকটি স্টযান্ডার্ড ব্যাংকে চাকরি করেন।টিকিটটি রয়েছে তাঁর অধিনস্ত একজন অফিসারের কাছে। সেই অফিসারের ফোন নাম্বারটি আমাকে দিলেন।আমি সেই অফিসারের নাম্বারে ফোন করলাম।অফিসারের নাম ডলার থাকেন বড় পুলের মাথায় কলোনিতে।আমি ডলারের নাম্বার নিয়ে ফোন করলাম। বললাম ভাই ট্রেনের একটি টিকিট বিক্রি নিয়ে কথা হচ্ছিলো। আপনি কি এই ব্যাপারে জানেন? ডলার বললেন ভাই টিকিটটি অনলাইনে কাটা আর ৯ তারিখের টিকিট। আমি বললাম ঠিক আছে আমি নয় তারিখেই বাড়ি যাবো। উনি বললেন ভাই তাহলে কষ্ট করে একটু এখানে আসেন। আমি বললাম ঠিক আছে আমি আসছি ।ফোন কল শেষ করে বাসের কাউন্টারের ম্যানেজারের সাথে আলাপ, ভাই আমার কেমন জানি সন্দেহ হচ্ছে।ট্রেনের টিকিট পাওয়ার পরেও উনি কেনো যাবেন না, বুঝতে পারছি না।

ম্যানেজার বললেন বোঝেন না,মহিলাদের দ্বারাও মানুষ অনেক সময় প্রভাবিত হয়।হয়তো উনার মিসেস বলেছেন উনি যেনো ট্রেনে না যান। হুম তাও হতে পারে।ভাই আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আমি যাই দেখি টিকিটটা নেওয়া যায় কি না। ওকে ঠিক আছে।

বড় পুলের কাছে গিয়ে ফোন করলাম। ডলার বললেন ভাই আপনি ব্রিজ পার হয়ে সবজি মার্কেটের কাছে আসেন। সেখানে যাওয়ায় জন্য ব্রিজের পরে উঠতেই ঝমঝমাঝম বৃষ্টি। রাতের বেলা হওয়ার কারনে আগে থেকে একটুও বুঝতে পারিনি এমন সময় বৃষ্টি আসতে পারে।তাই বাধ্য হয়েই বৃষ্টিতে ভিজে গেলাম।

বৃষ্টিতে ভেজার কারণে জ্বর সর্দি কাশি হতে পারে।কিন্তু রাতের আঁধারে কোথাও কোনো অলিগলিতে না দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজেই পৌছে গেলাম ডলারের কাছে। উনি আসলেন রাস্তার পাশের একটা বাসা হতে বের হয়ে।হাতে টিকিট, যেহেতু অনলাইনে টিকিট কাটা তাই এটা ছিলো কম্পিউটারে প্রিন্ট করা একটি পেজ মাত্র।আমার হাতে দিতেই দেখলাম সিট দুইটা।আর যার নামে টিকিট তার নাম তানভীর। টিকিটের পরে সেই মোবাই নাম্বারটি আছে যে,নাম্বারে টিকিটের ব্যাপারে প্রথম কথা বলি। আমি বললাম ভাই আমার তো টিকিট একটা দরকার।উনি বললেন ভাই টিকিট দুইটাই নেওয়া লাগবে।আমি বললাম আমার লস হবে।
না ভাই লস হবে কেনো? আপনি টিকিট বিক্রি করে দিয়েন। স্টেশনে গেলেই টিকিট বিক্রি হয়ে যাবে।

আমি বললাম তাহলে দাম কত রাখবেন? ডলার বলল যা খরচ তাই দিবেন।আমি বললাম না ভাই আপনি একটু কম রাখেন, তাই বলে ছয়শ টাকা হাতে গুনে দিলাম।উনি জোরাজুরি শুরু করে দিলেন।টিকিটের পরে ৬২০লেখা আছে আর উনার অনলাইন চার্জ বাবদ অতিরিক্ত ৪০টাকা লেগেছে।

আমি বললাম ভাই আর মাত্র দুইদিন আছে এই টিকিটের সময়।আপনি কাউন্টারে ফেরত দিলে অনেক টাকা কেটে রাখবে। একসময় ৬০০ তেই রাজি থাকলেন।আমি গার্ডকে ফোন করলাম।বিষয়টি বুঝিয়ে বললাম এই কাগজ দিয়ে সে টিকিট বের করতে পারবে কিনা? সে বলল,স্যার মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে টিকিট নিয়ে থাকলে, আমি টিকিট এনে দিতে পারবো। রাত প্রায় এগারোটা। ডলারকে বললাম ভাই টিকিট যদি ভুয়া হয়।সে বললো আমার কাছে এটি ফেরত এনেদিলে টাকা ফেরত দিবো। চলেন একদোকানে গিয়ে পরিচয় করায়ে দি।আমি এই এলাকার ছেলে কি না।আমি বললাম লাগবে না।আপনার ফোন নাম্বার আছে, আমি যোগাযোগ করবো।

তখনো বৃষ্টি হচ্ছে।রীতিমতো ট্রেনের টিকিটের জন্য এক যুদ্ধ শুরু হয়েছে।সে যুদ্ধ আবার কাউন্টারে নয়। টাউনের মাঝে।অপরিচিত লোকের সাথে বিশ্বস্ত লেনদেন। কিছু কিছু সময় অপরিচিত জনকেও বিশ্বাস করতে হয়।জীবন আসলেই বহুরূপী। চলে আসলাম জামাকমপ্লেক্স এ আমাদের রিজিওনাল অফিসে গার্ডের কাছে। তাকে অনলাইনের টিকিটটি দিয়ে বললাম কাল এটি দেখিয়ে আমাকে টিকিট বের করে এনে দিবেন।আমি বাসায় ফিরলাম রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। গার্ড বাসার গেট বন্দ করে দিয়েছে। গাড়ির হর্ণ শুনে এসে বললো আমি ভাবছি বাড়ি যাবেন বলে গাড়ি হয়তো ঘরে তুলে রেখেছেন।কথা বলতে বলতে বাসার ভিতরে ঢুকলাম। কিছুক্ষণ পরে বাসের কাউন্টারের ম্যানেজারের সাথে আবার কথা হলো, জানতে চাইলো কী খবর? আমি বললাম টিকিট পেয়েছি কিন্তু কাল সকাল না হলে কাউন্টারে না গিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমার কাছ থেকে দুটি টিকিটের কথা শুনে উনি বললেন ভাই যদি অপর টিকিটটি বিক্রি করেন তবে আমাকে বলেন, কোনো অভাগা আসলে তাকে খবর জানাবো।আমি বললাম কাল জানাবো ভাই।

পরের দিন সকালে ফোন দিলাম গার্ড জহুরুলের কাছে।উনি বললেন স্যার স্টেশনে যাচ্ছি স্যার একটু পরে সব বলবুনে স্যার।

কিছুক্ষণ পরে ফোন দিয়ে বলল স্যার টিকিট হাতে পেয়েছি সব কিছু ঠিকঠাক আছে।আল্লাহ কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম।জহুরুল বললেন স্যার টিকিট নিয়ে যায়েন।আমি বললাম ঠিক আছে সন্ধ্যায় আসবো।

জহুরুলের সাথে কথা শেষ হতে না হতেই শ্বশুর বাড়ি হতে আমার সন্তানের মামমাম ফোন দিয়ে বলল সুমন ঢাকা ঠেকে শুক্রবারে বাড়ি আসবে কিন্তু তোমার মতো সেও ট্রেনে সিট পাচ্ছে না।আমি তাকে টিকিটের ব্যাপারে বিস্তারিত বললাম। কথা গুলো বলতে অনেক সময় লাগলো শুনে সে খুশিতে আত্মহারা।আমরা দুই ভাইরাভাই একসাথে বাড়ি যেতে পারবো জেনে বাড়ির সবাই ভীষণ খুশি।ছোটো শালিকা তো মহাখুশি। তার হাসব্যান্ডের একটি টিকিটের ব্যবস্থা হচ্ছে জেনে।ঈদের দিন কতটুকু খুশি আসবে জানিনা তবে আজিই যে খুশির বন্যা বইছে তা হয়তো ঈদের দিনের খুশিকেও হার মানাবে।

কল কেটে দিয়ে ছোটো ভাইরাভাই সুমন কে ফোন করলাম। টিকিটের ব্যাপারে তার দুখের ইতিহাস সব বললো। আমি বললাম কাল দুটি টিকিট জোগাড় করেছি।সুমন বললো আপনি একা মানুষ আপা-তো বাসায় চলে গেছেন দুটি টিকিট কেনো? বললাম এটি তোমার জন্য কেটেছি।সুমন বলল ওহ রিয়েছি।আমি বললাম ইয়েস।হয় নট।সব কিছুতো সেভাবেই ঘটছে।হা হা হা।সুমন ও যে এতো খুশি যেনো বাড়ির সবার মতো আজই তারও ঈদ শুরু হয়ে গেছে।

সত্যিই ঈদের সময় বাড়ি ফিরতে আরামে ভ্রমণের জন্য একটি টিকিট যে কতটা আনন্দ দিতে পারে তা শুধু সেই বোঝে যে পায়। আজ বুধবার একদিন পরেই আমাদের কাকতালীয় খুশির ভ্রমণ, যাবো একই সাথে দুই ভাইরাভাই,সবার কাছে শুভযাত্রার প্রাণ খোলা দোয়া চাই।

—সমাপ্ত–

1797total visits,1visits today

এস এম মঞ্জুর রহমান

Leave a Reply