এলিয়েন ও রোবট

সান ও মুন দুই ভাইয়ের ছোটো বেলা হতেই বিজ্ঞানের প্রতি প্রবল আগ্রহ। কে জানত এই আগ্রহ তাদের একদিন স্মরণীয় বরণীয় করে তুলবে,বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগিয়ে দিবে।

একদিন ঠিক তাই হলো, বাড়িতে ব্যবহারের ফলে নষ্ট বা অকেজো রেডিও টিভি ফ্যান, ও কম্পিউটারের বিভিন্ন পার্টস নিয়ে নতুন কিছু তৈরি করতে গিয়ে দুই ভাই একদিন টিনেজ বয়সে ফ্রেন্ড নামে এক রোব তৈরি করলে প্রতিবেশীরা বাহবা জানাতে শুরু করে।

বাবার মুখটি সন্তানের এরূপ সাফল্যে চকচক করে ওঠে। সন্তানদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতে শুরু করে। প্রতিনিয়ত কাজ করে দুই ভাই রোবটকে এমন একটি পর্যায়ে উন্নীত করে যে রোবট তাদের ভয়েস সিগন্যাল নিতে সক্ষম হয়। তারপর সেন্সর পাওয়ার এ্যাড হলো, পরিবারের ঘরমোছা,কাপড় কাচা ভার উত্তোলনের মতো নানান কাজের পাশাপাশি বাজার করা ছাড়াও তাদের বাইরের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতে থাকে।

একদিন বৈদ্যুতিক বাল্ব তৈরি করার সময় কারেণ্টের দূর্ঘটনায় রোবটের সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটের কতগুলো সার্কিট ড্যামেজ হয়। তা ঠিক করতে গিয়ে আশ্চার্য জনক ভাবে রোবটের সংক্রিয় ক্ষমতার উদ্ভব হয়। হুবহু মানুষের মতো কাজ করতে থাকে।
এতো বিষ্ময়কর যুগান্তকারী কারী উদ্ভব করার পরও সান ও মুনের খুশির পাহাড়ে ধ্বংস নামে। রোবট আর আগের মতো তাদের কথা শুনে কাজ করে না।

মানুষের মতো সেও স্বাধীনতা দাবি করে। যখন সান মুন ঘুমিয়ে যায়, রোবট নিজেই কম্পিউটারের মাধ্যমে ভিন্ন গ্রহে সিগনাল পাঠাতে থাকে।

সবার অজান্তেই রোবট ভিন্ন গ্রহের প্রাণীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে তাদের গ্রহের স্যাটেলাইটে নিজের সার্কিট এ্যাড করে ফেলে।

প্রতি রাতে ভিন্ন গ্রহের প্রাণী তাদের আঙ্গিনায় আসতে শুরু করে। বাড়ির আঙ্গিনায় ভিন্ন গ্রহের প্রাণীর পায়ের ছাপ আর রেখে যাওয়া তাদের ব্যবহৃত জিনিস দেখে সান ও মুন বিষয় টি বুঝতে পারে।

সান খুব চিন্তিত হয়ে বলে ভাই, এলিয়েন দের সাথে ফ্রেন্ড যদি যোগাযোগ স্থাপন করে আর তারা এখানে বহু সংখ্যায় আসতে থাকে তবে আমাদের বসবাস করা দিনে খুবই কষ্ট সাধ্য হবে।
মুন বলল হ্যা জানি ভাই চেষ্টা করছি কিভাবে ফ্রেন্ডের এলিয়েনদের সাথে যোগাযোগটা বন্ধ করা যায়।

পরের দিন রাত্রের প্রথম প্রহরে ঘটলো এক বিষ্ময়কর ঘটনা, সান মুনদের নিজের এলাকার আকাশ হঠাৎ প্রচন্ড আলোয় ভরে গেলো,মনে হচ্ছিলো গ্রামবাসী যেনো নরওয়ে দেশে বসবাস করছে। মধ্য রাতে এমন উজ্জ্বল সূর্যের আলো শুধু নরওয়েতে দেখা যায়। এলাকাবাসীর সবাই ঘর ছেড়ে এলো। উজ্জ্বল আলোটি তীব্রতর আর বড় হতে লাগল একসময় একটি বিকট আওয়াজে পাঁচতলা ছাদের সমান উঁচুর আলো হতে বেরিয়ে এলো এক এলিয়েন।

তাকে দেখে মানুষের চোখ একেবারে ছানাবড়া আর ভয়ে গলা শুকিয়ে আসে। বিদঘুটে চেহারার প্রায় ৮০ হাত লম্বা এক প্রাণী, তার হাত পা দেহের বিস্তৃতি এমন ছিলো যে পাশের পুকুরের এপ্রান্তে একপা আর অপর প্রান্তে অন্য পা আর মাঝখানে খোলা মাঠের মধ্যে একটু ঝুঁকে পড়ে কারও সাথে কথা বলতে থাকে। মিনিট পাঁচের মধ্যে আবার বিকট আওয়াজ আর আলো জ্বেলে আকাশে চলে যায় এলিয়েন ।

এলাকাবাসীর কেউ না বুঝলেও সান ও মুন বুঝে ফেলে তাদের রোবট ফ্রেন্ডের কারণেই এসব ঘটছে ।

যে দুই ভাই সর্বদা রোবট কে উন্নততর করার চিন্তা করত এখন তারাই ফ্রেন্ডের ক্ষমতা কমানো চেষ্টায় ব্যস্ত। ফ্রেন্ড এখন এক বড় থ্রেড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলিয়েনদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করার জন্য তাদের কম্পিউটার আর ইন্টারনেট নষ্ট করে কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ ফ্রেন্ড এখন কম্পিউটার ছাড়াই নিজে ভিন্ন গ্রহের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সিগন্যাল পাঠাতে পারে। যোগাযোগ বন্ধ করতে একমাত্র উপায় ফ্রেন্ডের মেমরি অপসারণ করা কিন্তু রোবট জেগে থাকলে এটা সম্ভব নয় কারণ সে এখন সংক্রিয় রোবট আর একাজে সে নিশ্চিত বাঁধা দিবে। আরও সমস্যা হচ্ছে রোবট নিজে কখনো ঘুমায় না।

সূর্যের আলোয় অটো সোলার সিষ্টেমে সে চার্জপ্রাপ্ত হয় তাই তাকে অকার্যকর করার জন্য কমপক্ষে ত্রিশ দিন আঁধার ঘরে রাখতে হবে।যেখানে সূর্যের আলো না পৌছায়। প্লান মাফিক সান ও মুন বাড়ির আঙ্গিনায় মাটি খুড়ে বিশ হাত গভীরে একটি ঘর করে যেখানে চুম্বকের একটি চেয়ারও করা হলো এবং ফ্রেন্ড কে নতুন জগত দেখানোর কথা বলে তারা ফ্রেন্ড কে আন্ডারগ্রাউন্ড ঘরে নিয়ে আসনে বসাতেই রোবটের লোহা লক্কর আকর্ষিত হয়ে চেয়ারের সাথে রোবট ফিক্সড হয়ে গেলো। তারপর ত্রিশ দিন ঘর বন্দ রেখে রোবটের চার্জ শেষ হয়ে গেলে সান ও মুন নিজেদের ইচ্ছামত আবার রোবটকে প্রগ্রাম দিয়ে সাজিয়ে নেয়। কিন্তু সান ও মুন নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা কখনোই ভুলতে পারে না পারবে না কোনোদিন ও।
———-সমাপ্ত———–

1555total visits,1visits today

এস এম মঞ্জুর রহমান

Leave a Reply