গ্রীষ্মের ছুটি

ফাহিম ক্লাশ থ্রীতে পড়ে গ্রীষ্মের ১৫ দিনের ছুটিতে সে তার আম্মুর কাছ থেকে ১০ টি টাকা নিয়ে মামা বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হলো। যাওয়ার পথে শুধু মাঠঘাট বিল আর পাহাড়ি রাস্তা সারা পথ হেঁটে যেতে হয়।

অনেক দূর চলার পর তার ক্ষিদে পেলে রসগোল্লা খাওয়ার জন্য এক ময়রার দোকানে গিয়ে রসগোল্লার উপর প্রচুর মাছি ভনভন করছে দেখে মাছিদের মধ্যে একটি থাপ্পর দিলে দশটি মাছি মারা গেলো। ফাহিম দোকানদারের কাছ থেকে কলম কাগজ চেয়ে নিয়ে লিখলো একথাপ্পড়ে দশটি খতম,আর সে কাগজটি নিজের পিঠে বেঁধে দিয়ে পথে খাওয়ার জন্য চারটি রসগোল্লা কিনে পকেটে রেখে দিলো।

চলতে চলতে এক বাগানের মধ্যে একটি গাছের ফোকরে পাখিত ছানার ডাক শুনতে পেয়ে পাখির বাচ্চা নেবার ইচ্ছা হলো,সে গাছে উঠে ফোকরে হাত দিতেই মা পাখিটি ধরে ফাহিম ভীষণ খুশি,পাখিটি পকেটে রেখে দিয়ে অতি আনন্দে চলতে চলতে এক হিংসুটে দৈত্যের পাহাড়ে এসে ওঠে,সঙ্গে সঙ্গে দৈত্য এসে হাজির,ফাহিমের পিঠে কাগজে লেখা এক থাপ্পড়ে দশটি খতম দেখে এর ব্যখ্যা চাইলে ফাহিম বলে আমি এক থাপ্পড়ে দশ জনকে মেরে ফেলেছি। দৈত্য বলল অসম্ভব,এটা কী করে হতে পারে, তুই কি আমার চেয়ে শক্তিশালী,তাহলে পরীক্ষা হয়ে যাক তুই যদি জিতিস তবে তোকে ছেড়ে দিব আর যদি হেরে যাস তবে মেরে ফেলবো।

ফাহিম বলল কী পরীক্ষা দিতে হবে?

দৈত্যঃ এই পাথর চেপে পানি বের করতে হবে,দেখা যাবে কে কত বেশি পানি বের করতে পারে।

ফাহিমঃ ঠিক আছে তুমি আগে শুরু করো।
দৈত্য তখন একটি পাথর নিয়ে সমস্ত শক্তি দিয়ে চেপে চেপে মাত্র দু একফোঁটা পানি বের করল।
তা দেখে ফাহিম তখন দৈত্যেকে ঠাট্টা করে অট্টহাসি হেসে বলল আমি পাথর চাপলে কলকল করে পানি পড়বে।

দৈত্য তখন ভীষণ রেগে গিয়ে একটি পাথর হাতে দিয়ে বলল বের দুষ্ট বালক না হয় তোকে এখনি মেরে ফেলবো।

ফাহিম চুপিসারে পকেট থেকে রসগোল্লা বের করার জন্য বলল দেখো আকাশ কত নীল, তখন দৈত্য উপরে তাকালে পাথরটি পকেটে রেখে রসগোল্লা বের করে বলল এই দেখ হিংসুটে নির্বোধ দৈত্য আমার শক্তি, তাই বলে রসগোল্লায় চাপ দিতেই কলকল করে রস ঝরতে দেখে ভয়ে দৈত্যের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো।

দৈত্য ভয়ে ভয়ে বলল ঠিক আছে এখানে তুমি জিতেছ তবে আরো একটি পরীক্ষা দিতে হবে।

ফাহিম ঃ কীসের পরীক্ষা?
দৈত্য ঃ এবার পাথর ছুড়ে পাল্লা দিতে হবে।
ফাহিমঃ তবে তুমি আগে ছুড়ে দেখায় তার পর আমি।
তখন দৈত্য একটি ছোটো পাথর নিয়ে সজোরে সামনে বিশাল নদীর দিকে ছুঁড়ে দিলে নদীর প্রায় ওপ্রান্তে গিয়ে পড়ল।

ফাহিমঃ ঠাট্টা করে বলে মাত্র এই পর্যন্ত আমি পাথর ছুড়লে তা শুধু চলতেই থাকবে কখনো থামবে না।
দৈত্য ঃকী এতো বড় কথা! তাহলে দেখা তোর শক্তি।

ফাহিম তখন দৈত্যের সামনে একটি পাথর তুলে গোপনে পকেটে রেখে, পাখিটি ধরে সজোরে ছুড়ে দিলে পাখিটি সোজা উড়তে থাকে দেখে ওরে বাবা এ কী শক্তিশালী মানব বলে দৈত্য ভয়ে পালিয়ে গেলো।

তারপর আবার ফাহিম নানার বাড়ি দিকে হাঁটতে হাঁটতে এক তরমুজ বনের ভিতর দিয়ে যাবার সময় মালিকের কাছ থেকে ৩ টাকা দিয়ে একটি তরমুজ কিনে নিয়ে কিছুদূর গিয়ে একটি টিউবয়েলের পাশে তরমুজটি রেখে টিউবওয়েল হতে পানি খেতে গেলে একটি শিয়ালে তরমুজটি ভেঙ্গে খাওয়া শুরু করে। ফাহিম তরমুজের পাশে শেয়াল কে দেখে ভাবে শেয়ালটি বুঝি তরমুজের ভিতরেই ছিলো, আর এখন তরমুজের ভিতর হতে শেয়াল বের হয়ে এসেছে তাই ঐ শেয়াল টি তার এই ভেবে শেয়াল কে ধরতে গেলেই শেয়াল দৌড়াতে থাকে পিছে ফাহিম। ফাহিম শেয়াল কে যত দাঁড়াতে বলে শেয়াল ততো ছুটতে থাকে। ছুটতে ছুটতে একসময় গ্রামের মধ্যে হারায় যায়। তখন ফাহিম এক বাড়িতে এসে এক বুড়ির কাছে জিজ্ঞাসা করে তার শেয়ালকে বুড়ি দেখেছে কিনা। সে বুড়ির অনেক গুলো ছাগল ছিলো প্রায় রাতে শেয়াল এসে ছাগল ধরে নিয়ে খেয়ে ফেলত। তখন বুড়ি বলে হ্যা দেখেছি তোমার শেয়াল রাত্রে আবার আসবে। তুমি যদি আমার ছাগলের ঘরে রাত্রে পাহারা দাও তবে শেয়াল কে ধরতে পারবে। বুড়ির কথা মতো ফাহিম রাত্রে পাহারায় থাকলে সেদিন রাত্রে শেয়াল না এসে এলো এক বাঘ। আর রাতের আঁধারে শেয়াল মনে করে বাঘের ঘাড়ে চড়ে ফাহিম বলল এইবার তোকে ধরেছি শেয়াল তুই কোথায় যাবি। আর বাঘ ছাগল খেতে এসে হঠাৎ তার ঘাড়ে একটি বোঝা অনুভব করে ভয়ে ছাগল রেখে নিজের প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে শুরু করল।
ফাহিম বাঘের ঘাড়ে চেপে দৌড়াতে দৌড়াতে যখন সকাল হয় তখন নিজেকে বাঘের ঘাড়ের পরে দেখে ভয়ে মা বাঁচাও বলে চিৎকার দিয়ে ঘুম ভেঙ্গে দেখে সে মায়ের পাশেই ঘুমিয়ে আছে।

825total visits,1visits today

এস এম মঞ্জুর রহমান

Leave a Reply