পথের শিশু

শুকনা মুখের ছোট্ট শিশু
রোজ দেখি যায় হেঁটে,
খাবার হোটেল ডাইনে রেখে
ক্ষিদেয় ভরা পেটে।
কোনসে দূরে যায় সে একা
কোন জিনিসের খোঁজে,
কেউ জানেনা নিঝুম রাতে
কোথায় মাথা গোজে।
সঙ্গের সাথী পথের কুকুর
রোজ ছুটে যায় সাথে,
ভাগ বসাতে ময়লা মাঝের
প্যাকেট মোড়া ভাতে।
লাজুক চোখের চাহনিতার
ময়লা মাখা গায়ে,
কোনসে মায়ের বুকের মানিক
থাকে আদল পায়ে।
সোনার বর্ণ ত্বকটি তাহার
ধূলার চয়ে ঢাকা,
তেল অভাবে সারা গায়ে
চৈতালি মাঠ আঁকা।
ঝিঁঝিঁ ডাকা সন্ধ্যা বেলায়
একই পথে ফিরে,
কুকুরটাকে জড়ায় বুকে
ঘুমায় দুজন ধীরে।
রেলগেটে তার বসত বাড়ি
বিছানাটা মাটি,
এমনি আরও শতেক শিশু
গড়ছে সেথায় ঘাঁটি।
অসুখ হলে পায়না ওষুধ
দেখায় না কেউ মায়া,
অভাগা তার হারায় গেছে
মায়ের আঁচল ছাঁয়া।
মাটি মাখা শরীর খানা
গড়ায় মাটির পরে,
কেউ করেনা আদর সোহাগ
বুকের সাথে ধরে।
জ্বরে গাটি তপ্ত পাতিল
হৃদয়টা হয় ভাজা,
অনাদরের ভুবনে পায়
কোনসে পাপের সাজা।
দিনের শেষে রাত্রি এসে
মিলায় নতুন ভোরে,
মিলায় না তার দুঃখের জীবন
জন্মাবধি ধরে।
লতার মতো বাহু দুখান
লাগায় কুলির কাজে,
বাবুরা সব চাপায় বোঝা
বয়না যাহা লাজে।
যে শিশুটা সমাজ পতির
বইছে বোঝা ঘাড়ে,
এই সমাজের বোঝা বলে
ভাবছে সবাই তারে।
ময়লা খেয়ে সমাজ টাকে
রাখছে যারা স্বচ্ছ,
ভাবছে তাদের নোংরা সবাই
এই জগতের তুচ্ছ।
জন্ম যাদের ভালোবাসায়
সভ্য জনের কাছে,
বাপ অভাবে সেই শিশুটা
জারজ হয়ে বাঁচে।
ভালোবাসার উল্টো পিঠে
যতো কালি মাখা,
সব পড়েছে শিশুর মুখে
লাম্পট্য রয় ঢাকা ।
—সমাপ্ত—

1132total visits,1visits today

এস এম মঞ্জুর রহমান

Leave a Reply