পাগলীর মা হওয়া

সেদিন প্রভাতে ঘরের কিনারে-
সুর শুনিয়া কান্নার,
দেখিলাম শিশু মায়ের কোলে
খুলিয়া ঘরের দ্বার।
বিষ্ময়ে চোখ স্থির হইলো-
রহিলাম শুধু চাহিয়া,
পাগলীর চোখে শিশুর শোকে
অশ্রু পড়িছে বাহিয়া।
দু’জোড়া চোখে অশ্রু নহে-
ঘৃণা ভরা ধিক্কার,
অঝরে ঝরিয়া প্রতিবাদ করিছে
অসভ্য সমাজটার।
দিনের আলোয় যে দেহটা-
নোংরায় আনে ঘৃণা,
রাতের আঁধারে বাধ্য হইলো
মিটাইতে কামনা।
ফল দেখিছে হাজারো পথিকে-
প্রতিবাদ নাহি মুখে,
পাগলীকে বরং ঠাট্টায় সকলে
হাসিতে ফাটিল সুখে।
পাগলীটা শুধুই মাতা হয়েছে
পিতা হয়নি কেহ,
সব কিছু তার ঘৃণার কারণ
ভালো শুধুই দেহ।
অন্যায় কি’বা ছিলো পাগলীর-
ভাবলনা বিবেক দিয়া,
সুস্থমাথায় যে লাম্পট্য করিলো
মাতেনাই তাহাকে নিয়া।
আর কতকাল তেল মাখাইয়া-
জীর্ণ বিবেকটাকে,
অন্যায় মাঝে বিলাইয়া দিয়া
চালাবে জীবনটাকে।
চোখের সামনে দেখিছে সকলে-
পাগলীর পরিণতি,
তাহাকে ধর্ষণে প্রতিবাদে নাই
হুংকারের একরতি।
অথচ যাহারা রোমাঞ্চ করিয়া-
অসতর্কে ফলবতী,
তাহাদের জন্য ভাংচুর করিয়া
দেশের করিতেছে ক্ষতি।
পাগলীর জন্য মনের মধ্যে-
মানবতাটা ভিন্ন,
ধর্ষক নহে ধর্ষিতা সেথায়
পদে পদে হয় ঘৃণ্য।
সময় কি আজো হয়নি তবু-
ভাবিতে একটি বার,
সম্পদশালী নয় সকলের জন্য
সত্য বলা দরকার?
—সমাপ্ত—

755total visits,1visits today

এস এম মঞ্জুর রহমান

Leave a Reply