প্রথম রাজধানী ভ্রমণ

এইচ এসসি পরীক্ষা শেষ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি কোচিং করতে প্রথম ঢাকায় গেলাম।ঢাকায় গিয়ে মিরপুর বারো নম্বরে মামার বাসায় গিয়ে উঠলাম। উঁচু উঁচু সব দালান কোঠা আর পোষ্টার ব্যানারে ভর্তি ঢাকা।
গ্রামের মানুষ শহরে প্রথম গেছি তাই সাবধানতা প্রতিপদক্ষেপে। বাড়ি থাকতেই শুনেছিলাম ঢাকায় যেখানে সেখানে ঠকবাজি চলে।ঠকবাজের হাতে পড়লে সর্বস্ব কেড়ে নেয়।তাই,নিজে বুদ্ধি খাটিয়ে চলতে শুরু করি।মিরপুর দশনম্বর গোলচত্বরের পাশে পর্বতা টাওয়ারে ইউসিসি কোচিং সেন্টার। ভর্তি হবার জন্য মামার কাছে ঠিকানা শুনে নিয়ে একাই চলে গেলাম।বাস হতে নেমে গোলচত্বরের ওভার ব্রিজে উঠলাম।এটি আট রাস্তার মোড়।কোন দিক হতে এসেছি ঠিক রাখা খুব কঠিন। তাই, বুদ্ধি করে একটি চিহ্ন ঠিক করলাম।মিরপুর বারো নম্বরের দিকে ওভার ব্রিজে,পনেরই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসের একটি ব্যানার ছিলো।ঠিক করলাম যেদিকে ব্যানার আছে সেই দিকে আমার বাসায় ফেরার রাস্তা।কোচিং-এ ভর্তির কাজ সেরে নিশ্চিন্তে ফিরে আসলাম অভার ব্রিজের দিকে। এখন যেদিকে শোক দিবসের ব্যানার সেদিকেই ফিরতে হবে। ব্রিজের উঠার সময় উপরে তাকিয়ে চোখ সানাবড়া হয়ে গেলো। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে গেলাম ব্রিজের ঠিক মাঝখানে।দেখি চারদিকে চারটি একই রকম ব্যানার টানানো।মাথায় যেনো বাজ পড়লো। একা একা অসহায় হয়ে পড়লাম।এখন কী করবো।যদি পথিকের কাছে আমার পথ জানতে গিয়ে ঠকবাজের কাছে শুনি তাহলে তো জীবন শেষ।কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে চিন্তা করলাম কী করা যায়,কে আমাকে সাহায্য করতে পারে।হঠাৎ চোখে পড়ল ট্রাফিক পুলিশ যিনি জোরে জোরে বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। তিনি আইনের সেবক।তাই তাকেই মনে মনে বিশ্বাস করলাম আর জিজ্ঞাসা করলাম বারো নম্বরের পথটা কোন দিকে।উনি আমার কথায় বুঝলেন আমি ঢাকায় নতুন। আমাকে ছোটো মানুষ বুঝে সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে বললেন। আরও বললেন যদি কখনো পথ ভুলে যাই তবে যেনো পথিকের কাছে না শুনে কোনো দোকানদারের কাছে জিজ্ঞাসা করি।কারন তারা সাধারণত ভণ্ড বা ঠকবাজ হয়না।উপদেশ গুলো আজও স্মরণে আসে আর বাইরে গেলে তা অনুসরণ করি।

—সমাপ্ত–

4343total visits,5visits today

এস এম মঞ্জুর রহমান